২৫, জানুয়ারী, ২০২০, শনিবার

আইএসের টুপিটা আসলে বাংলাদেশের মাথায়ই পরিয়ে দেয়া হলো! ডক্টর তুহিন মালিক

হলি আর্টিজানের মামলার রায় উপলক্ষে আজ গোটা আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আদালত প্রাঙ্গণে যাঁরা ঢুকেছে, তাঁদের প্রত্যেকের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে। এমনকি আইনজীবীরাও বাদ যায়নি। কয়েক হাজার পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সরকারী সংস্থার সদস্যরা গোটা আদালত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। কয়েক দিন আগে থেকেই পুরো আদালত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণসহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে আসছিল সরকারি বাহিনীগুলো। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানিয়েছিলেন র‍্যাবের মহাপরিচালক। আগামী কয়েক দিন র‍্যাব সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

অথচ এতো তর্জন-গর্জনের মাঝে দেশবাসীর সাথে গোটা বিশ্ব আজ দেখলো, বাংলাদেশের আদালত চত্বরে জঙ্গিদের মাথায় আইএসের টুপি!

দীর্ঘদিন ধরে সরকারী হেফাজতে আটক থাকা রাষ্ট্রের অতি সংবেদনশীল ও আন্তরাষ্ট্রীয় জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত এই হাই প্রফাইলের আসামীদের মাথায় আইএসের লোগো খচিত এই টুপি তাহলে কে পরিয়ে দিলো? এই জঙ্গিরা কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি থাকা স্বত্বেও এই টুপি তাদেরকে কে দিলো? এতো এতো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা! র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর পাহারার মধ্যে আদালত চত্বরে এই টুপি তাদেরকে কে দিলো? হাতকড়া পরা কিংবা দুই হাত ক্রাচে ভড় দেয়া এইসব মারাত্বক জঙ্গির মাথায় এই টুপি কে পরিয়ে দিলো?

এটা তারাই পরিয়েছে, যারা জানে আজকে আদালতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও হাই কমিশনের লোকজন উপস্থিত আছেন। হামলায় নিহত বিদেশি নাগরিকদের স্বজনরা উপস্থিত আছেন। দেশ বিদেশের সাংবাদিক, ক্যামেরা, মিডিয়া উপস্থিত আছে। তারা জানে, আজকের রায়টা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হবে। তাই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মাথায় আইএস জঙ্গিদের টুপির প্রদর্শনীটাই তাদের আসল চাওয়া ছিল।

আচ্ছা, এতো মিডিয়া, টিভির ক্যামেরায় কেন টুপি পরার দৃশ্য ধরা পরলো না? আদালত কিংবা কারাগারে তো সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোতে এটা ধরা পরলো না কেন? এরকমের হাই প্রফাইলের আসামিদের মাথায় তো হেলমেট, আর বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরানো থাকে! তাহলে আন্তরাষ্ট্রীয় ভয়াবহ এইসব জঙ্গিদের মাথায় হেলমেটের বদলে আইএসের টুপিটা পরালো কে? আচ্ছা, টুপি না হয় পরালো, কিন্তু জঙ্গিদের চারপাশে থাকা অসংখ্য র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা এবং সরকারী কর্মকর্তারা কেন এই টুপিটা খুলে দিলো না?

টুপির বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের মাথায় আজ যে জঙ্গিবাদের টুপি পরিয়ে দেয়া হলো, সেই রাষ্ট্রীয় কলংক কি এইসব তদন্ত কমিটির রিপোর্টে মোচন করা আদৌ সম্ভব হবে?

আসলে, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসাবে উপস্থাপন করতে পারলে যারা সবচাইতে বেশি বেনিফিশিয়ারি। যারা এদেশকে জঙ্গি মুক্ত করার নামে আগ্রাসন চালাতে উদগ্রীব। তাদের নির্দেশনা ছাড়া রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চোখের সামনে এতবড় একটা ঘটনা এই মুহুর্তের বাংলাদেশে অন্যকারো পক্ষে কোনভাবেই ঘটানো সম্ভব না।

আশ্চর্য, কেউ নাকি কিছুই জানে না! পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন পুশইনের খবর জানেন না! আর সরকারও জঙ্গিদের মাথার টুপির খবর জানে না! কারন তারা দেখাতে চাচ্ছে, এদেশ থেকে জঙ্গি এখনো শেষ হয়ে যায় নাই। আর জঙ্গি দমনে যেকোন পন্থায় হোক না কেন তাদের ক্ষমতায় থাকাটা কতটা জরুরী।

পুনশ্চঃ- ২০১৭ সালের ১ মে ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়’ একটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। খবরে বলা হয়, “ভারতের প্রবীন কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী দ্বিগিজয় সিং স্বীকার করেছেন, এই অঞ্চলে আইএসের নামে ওয়েবসাইট চালায় ভারতের তেলেঙ্গানার পুলিশ।”

ডক্টর তুহিন মালিক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

সর্বশেষ নিউজ