২৫, জানুয়ারী, ২০২০, শনিবার

২০০ ড্রেজারের মালিক কে এই ওসি?

২০০ ড্রেজারের মালিক কে এই ওসি?

২০০ ড্রেজারের মালিক তাহিরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর! সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে এসব ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে প্রতিটিতে ১৫ হাজার টাকা করে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় করেছেন। গত তিন বছর তাহিরপুর থানার ওসি থাকা অবস্থায় এসব টাকা অবৈধপথে অর্জন করেছেন তিনি। জানা গেছে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি বিরোধেী অভিযানের সময় তিনি সিংগাপুরে বেড়াতে চলে যান। পরিস্থিতি বুঝে চলে চলেন। প্রশ্ন ওঠে তিনি এই আভাস কিভাবে পান? কে তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেন?

গত ২৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওসি নন্দন কান্তি ধরের বিরুদ্ধে এমন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই উপজেলার উত্তর বন্দন এলাকার বাসিন্দা সেলিম ইকবাল।

দুদকে দেয়া সেই অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে তাহিরপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে ওসি নন্দন কান্তি ধর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে জাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালুপাথর উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

সেলিম ইকবাল দুদকে দেয়া অভিযোগ আরও উল্লেখ করেছেন, ওসি নন্দন কান্তি ধর তাহিরপুরে নদী খনন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। জায়গা ভরাট করে দেয়ার নামে তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মতুর্জা আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও জায়গা ভরাট করে দেননি ওসি নন্দন।

ওসি নন্দন কান্তি ধরের তার অবৈধ টাকা দিয়ে ভারত ও সিলেটে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সেলিম ইকবাল।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে তাহিরপুর উপজেলা থেকে বদলি হওয়ার পর বর্তমানে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আছেন নন্দন কান্তি ধর।

এদিকে দুদকে তার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত ওসি নন্দন কান্তি ধর। একটি ড্রেজার মেশিনেরও মালিক নন বলে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার কোনো ড্রেজার মেশিন ছিল না, এখনো নেই। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা আলী মর্তুজা নামক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। আমার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। দুদক অভিযোগ তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

এর আগে সরকারে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান তালিকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নাম আসে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে গত ১০ বছরে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ বানিয়েছেন তিনি; তার বিরুদ্ধে দুদকে এমন অভিযোগ দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান সোহেল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এমপি রতনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে।

এর পর অভিযোগ আসে, এমপি রতনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করায় মিজানুর রহমান সোহেলকে তাহিরপুর থানার ওসি ক্রসফায়ারের হুমকি দেন।

সে সময় মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ৩ অক্টোবর প্রথম দফা এমপির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর ৫ তারিখে তাহিরপুর থানার ওসি তার বাড়িতে পুলিশ পাঠান। এরপর থেকে নানাভাবে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের আগে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেনের তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন নদী, জলমহাল, বালু ও পাথরকোয়ারিতে চাঁদাবাজি করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ধরমপাশা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকায় বাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদ তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে করেছেন।

তবে তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মিজানুর রহমান নামের কাউকে চিনি না। এই নামে কারও সঙ্গে ফোনেও কথা বলিনি। এসব সত্য নয়। সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ নিউজ