২৮, জানুয়ারী, ২০২০, মঙ্গলবার

ভিপি নুর রক্তাক্ত: মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৩ নেতা রিমান্ডে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সঙ্গীদের রক্তাক্ত করার ঘটনায় গ্রেফতার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতার বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাইনুল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও মেহেদী হাসান শান্ত। এদিন তাদের শাহবাগ থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্য ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার শাহবাগ থানার নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রইচ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন, যার মামলা নং-৩৪।

সোমবার হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ গ্রেফতার করা হয় মেহেদী হাসান শান্তকে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের দফতর সম্পাদক।

রোববার ডাকসুতে নুরের কক্ষে বাতি নিভিয়ে হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না আসায় পুলিশই মামলা করেছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার আট আসামি হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাবি শাখার সভাপতি এএসএম সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, এ এফ রহমান হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসিমউদ্দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ (হল থেকে অস্থায়ী বহিষ্কৃত), জিয়া হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম মাহিম এবং মাহবুব হাসান নিলয়।

উল্লেখ্য, রোববার ভিপি নুরুল হককে তার ডাকসুর কক্ষে ঢুকে বাতি নিভিয়ে পেটান মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। ভিপি নুরসহ আহতদের অভিযোগ– ছাত্রলীগ এ হামলায় সরাসরি অংশ নেয়।

এ সময় নুরের সঙ্গে থাকা ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ৩০ জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। দুজনকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে রোববার রাত পর্যন্ত ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই দফায় নুরুল হক ও তার সহযোগীদের রড, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। প্রথম দফায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডাকসু ভবনে ঢুকে তাদের পেটান।

এর পর ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক (ডাকসুর এজিএস) সাদ্দাম হুসাইন ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও মারধর করা হয়। এ সময় ডাকসু ভবনেও ভাঙচুর চালান ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী।

সর্বশেষ নিউজ