২৮, জানুয়ারী, ২০২০, মঙ্গলবার

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোর দিন: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে যে হিড়িক পড়েছে তাতে কোনোদিনই সব মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না। এত মামলার চাপ পৃথিবীর কোথাও শেষ করা যায়নি। এটাই বাস্তবতা। এ জন্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) দিকে জোর দিতে জেলা জজদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা আয়োজিত ‘সরকারি আইনি সেবা ও সুশাসন শক্তিশালীকরণ’ বিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজরা অংশ নেন।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান গুয়েন প্রমুখ।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি, ৯০ শতাংশ মামলা আদালতের বাইরে আর ১০ শতাংশ মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হয়। আমাদেরও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের সফলতার ওপর নির্ভর করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এ জন্য সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে।

কোনো কোনো জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি প্রত্যাশিত কার্যক্রম পরিচালনায় পিছিয়ে পড়ছে; কিন্তু পিছিয়ে পড়লে চলবে না। সবাইকে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই এ কার্যক্রমের সফলতা আসবে।

আনিসুল হক বলেন, আদালতগুলোতে বিদ্যমান মামলা জট হ্রাস করতে লিগ্যাল এইড অফিসগুলো যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৮৯(এ) ধারায় সংশোধনী এনেছে। ফলে লিগ্যাল এইড অফিসগুলোতে অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ জনগণকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পক্ষগণের মধ্যে থাকা বিরোধ এডিআর পদ্ধতিতে মীমাংসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমার বিশ্বাস অসহায়, দরিদ্রদের আইনি সহায়তা দিতে আপনারা সহযোগিতা করবেন।

আইন সচিব গোলাম সারওয়ার বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত চার লাখ ৭৮ হাজার ৮৫৮ বিচারপ্রার্থীকে সরকারি আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯২ হাজার ৬১৫ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ